Deman Tripura

জাতিগত নির্মুল অভিযানে গল্প-০১

 



চোখ খুলে দেখলাম, মনে হচ্ছে পাহাড়ে এক বিশাল অদ্ভুত ঘর বাড়িতে এসে পৌঁছলাম, কিছুটা  মাচাং ঘর আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। মাটি থেকে ৮ ফুট উচ্চতা,  ঘরগুলোর বাইরে তাকাইলাম,  চারিদিকে পাহাড়, ঝোপঝাড়,  আর প্রচুর  পাহারাদার তবে চেহারা দেখা যাচ্ছে না তাদের, শুধু  বুটজুতা দেখা যায় নিচে ঝোপেড় আড়ালে,  অনেক সময় ঝোপগুলো নড়াচরা করে,  আমি অনুমান করার  চেষ্টা করছি এইগুলো শুধু লোকবিহীন কালো বুট-? না  ভিতরে লোক আছে,  তাহলে তো এখান থেকে পালানো যাবে না। না! এই কাজটি কীভাবে করবো! আমাকে যে ঘরে আনা হয়েছে সেই ঘরগুলো লোকসংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে আর ততক্ষনে বহুপরিচিতি জনের সাথে দেখা হয়ে গেল। কেউ শিক্ষক কেউ আমলা কেউ রাজনীতিবীদ, কেউ ছাত্র, স্কুল বন্ধু আরো নানা পেশার মানুষ সাথে দেখা হয়ে গেল, সাথে রয়েছে নতুন নতুন মুখ, আরো আধাচেনা, হালকাচেনা মুখগুলো ও । মনে হয়েছিল একটুকরো বাংলাদেশ, একটি অফিস, একটি মঞ্চ, এভাবে মনে নানান ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিল।  আমি এসে ২ ঘন্টা পেরিয়ে গেল, এখন ও বুঝে উঠতে পারে নি সবকিছু। 

শুধু এইটুকু ঝাপসা মনে পড়তেছে, আমি কি কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরছি, তখনই কি আমাকে এখানে আনা হয়েছে। একদম মনে পড়ছিল না। আমি হাঁটাচলা করতেছি ঘরের ভিতরে, বাকিরাও । মনে হয় নি আমাদেরকে  এখানে  বন্ধি করা হয়েছে। তবুও অদ্ভুত লাগছিল পরিবেশগুলো। বোধহয় এটি পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন সম্পূর্ণ একটি জগৎ। করো কাছে মোবাইল নেই। তবে আমার পকেটে আছে, এটি আমি জানি। এমনকি যারা আমাকে এনেছে তারা ও জানে এটি। কিন্তু আমি মোবাইলটি ধরে দেখার প্রয়োজনবোধ করে নি, তবে বুঝে উঠতে পারি নি এখনও,  এতোক্ষণ আমার সাথে  এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মোবাইল রাখলো কি  জন্য! 
মোবাইলের কথা ভুলে তারপর আবার মনোযোগ দিলাম, ঘরগুলোর মেঝেতে প্রচুর চাপাতি, ছুরি পড়ে আছে, এগুলো এতটা উন্মুক্ত যে কেউ মেঝে থেকে তুলে পরস্পরকে খুন করা যাবে আনায়সে। তবে দুই একজনের হাতে লাঠিও দেখছি, কিন্তু বন্ধুক এখনও দেখা মেলে নি।  তবে ঘরের আড়ালে, ঝোপের আড়ালে কালো বুট, ঝোপের নড়াচড়া  দেখে অনুমান করা যায়,  রাইফেল,  মেশিগান ভারি অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে আছে বাইরে কেউ।  
এখন ধীরে ধীরে স্মৃতি ফিরে এসেছে আমার। নিজেকে চেয়ে দেখলাম, পুরোপুরি সুস্থ, গায়ে কাটাচিহৃ নেই, রক্তের দাগ নেই, তবুও কেন স্বৃতি ফিরতে দেরী হলো জানি না। তাহলে কি আমাকে ব্রেনে কোন মেডিসিন পুশ করে ডাইবার্ট করে ফেলছে!  আমি কি আর আমি নেই। সবকিছু অন্যের,  অন্যের কোন স্বৃতির আমার ব্রেনে প্রোগ্রাম আকারে  ইনস্টল করে  দিয়েছে ! এমনকি তারা আমার ব্রেনে  যদি থার্ড জেন্ডার হরমোন বিহেভিয়ার ইনজেকশন পুশ করে দেয় তাহলে আমার আচরন সেইরকম হয়ে যাবে, তাহলে তো আমি তো বুঝতে পারবো না,  পূর্বে আমি কেমন ছিলাম।  তারা আমাকে যে প্রকিয়াই জন্ম দিয়েছে সেইভাবে আমার সবকিছু হবে। 
যেহেতু আমি এখনও এটা চিন্তা করতে পারছি, একইসাথে পূর্বের ঘটনা আর বর্তমান ঘটনাগুলো অনুমান করার মতো সেন্স হালকা হালকা চলে আসলো। এই সেন্স দিয়ে আমার চারপাশে আরো একবার দেখার প্রয়াস জাগলো।  সবাই আলোচনা করতেছে, কথা বলতেছে,পরস্পরের সাথে পরিচয় হচ্ছে । কিন্তু আমি এখন ও কারো সাথে কথা বলেনি, এতকিছুর মধ্যে ছোট দুই একটি কথা শোনা যাচ্ছে আদেশ দেওয়ার মতোই , বাক্য কিন্তু খুবই নরম সুরে । এই যেমন-  তোমরা সবাই বাইরে কারো সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করিও না, পালানো চেষ্টা করিও না । অথচ সেই বাক্যে  নেই কোনো ভই পাইয়ের দেওয়ার মতো ধ্বনি বা মেরে ফেলে দেওয়ার মতো হুমকি কিন্তু তারপর ও দেখলাম সবার মধ্যে একধরনে  আতঙ্কের ছাপ,  কেমন যেন অনেকেই চেহারা মধ্যে আকুতি-কাকুতি প্রাণ ভিক্ষা বা এখান থেকে মুক্তির আকাঙ্খা ছাপ দেখা যাচ্ছে,  এখন আমি আগের তুলনায় আরো একটু হুসঁ (সেন্স) ফিরে পাচ্ছি। তবে এটি ঘটনাকে সুক্ষভাবে ব্যখ্যা  করা মতো হুঁস ছিল না। এই ফাঁকে দেখলাম অনেকেই আমার সাথে আলাপ করতে ইচ্ছুক,  চার পাঁচ জন লোক আমাদের ঐ ঘরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেছে । আমি ও ধরে নিয়েছি, তারা নিশ্চয়ই আমার মতো অপহরন হয়ে এখানে এসেছে । আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে কী  করেন ? চাকরি করেন না স্টুডেন্ট ? বাড়ি কোথায় ইত্যাদি কমন প্রশ্ন । তাদের সবার প্রশ্নের উত্তর একে একে  বলে যাচ্ছি এভাবে- আমি ত্রিপৃরা আদিবাসী । নির্দিষ্ট। ইনকাম র্সোস নেই এখন আপাতত । আগেই ছিল।  এখন আপতত যেটা করি সেটা হলো: যারা গরিব পড়াশোনা করার সামর্থ্য নেই , প্রান্তিক জনগোষ্ঠি তাদের নিয়ে কাজ করি, এইভাবে থেমে থেমে  বিভিন্ন  আলাপ আলোচনা চলতে থাকে বিভিন্ন জনের সাথে । তারপর তাদের-ই একজন বললো মোবাইল আছে ? আমি বললাম জ্বি আছে । এবার তারা বলল ফেলে দাও আমি নির্দ্বিদায় মোবাইলটি ফেলে দিলাম । কিন্তু ফেলার পর দেখি  মোবাইলটি কোথাও  আটকে গেল । কেউ মেঝেতে  শুয়ে  হাতটা নিচের দিকে  বাড়ায়লে মোবাইলটি লাগ পাবে । কিন্তু কেউ ভ্রুক্ষেপ  করল না ঐ মোবাইলের দিকে । তারপর দেখলাম,  শাড়ি পড়া গোমতা দেওয়া একটি মহিলা  মেঝেতে পড়ে থাকা একটি  ছয় ইঞ্চি চাইনিজ চাপাটি তুলে পেছন থেকে  একজনের মাথা আঘাত করল । আর আঘাত প্রাপ্ত লোকটি খুব দ্রুত মারা যাচ্ছে,  মারা যাওয়া আগে যে কাতাঁরানি গোঙ্গাঁনি কাঁপুনি বের হওয়ার কথা সেটি কোনটাই বের হচ্ছে না,  মনে হচ্ছে মহিলাটি প্রশিক্ষিত কিলার, নতুবা সাবাইকে মেরে এখান থেকে পালিয়ে যাওয়া  চেষ্টা...। আমি এই ভেবে অবাক হচ্ছি,  বাকিরা সবাই স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিচ্ছে এই দৃশ্যটা, কেউ তাকে বাধা দিচ্ছে না, তিনি ইতিমধ্যে কয়েকজনকে  হত্যা  করে আঘাত করে মেরে  ফেলতেছে, আমি মহিলাটির দিকে নজর দিতেছি,  কখন আমার দিকে আঘাত করে এই ভেবে।  কেননা যারা তার দিকে নজর রাখে তাদেরকে আপতত আঘাত করা হচ্ছে না এই মুহূর্তে,  কিন্তু আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না , যাদের সাথে আলাপ চারিটা  হয়েছিল তাদের মধ্যেও এসব আঘাত  ও মৃত্যু  নিয়ে  কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই কেন? এইসব দৃশ্য দেখে এখন আমার আগের তুলনায় একটু অনুমান শক্তি বৃদ্বি পেয়েছে । তাইতো ঐ মহিলা ফেলে দেওয়ার লাশের সংখ্যা অনুমান করতে পারলাম হলো:  ৭ থেকে ৮ জন । মহিলাকে বুঝার চেষ্টা করলাম ’ তিনি কী সবাইকে হঠাৎ হঠাৎ এভাবে  আক্রমন করে বসেন,  যারা তার দিকে  খেয়াল করবে না? 
যারা আমাকে এনেছে তারা বা কে ? তাদের মেটিকিউলাস ডিজাইন বা কী ? অবশেষে আমার সেন্স অব হিউমার (মগজের উচ্চ চিন্তা) খোলে গেল যে, এখানে এখন কে ভিক্টিম! কে ডিজাইনার! কে অপহরণকারী!  তা বুঝতে সময় লাগবে। আর  মুল হোতার রুমগুলোতে কি ঘটছে তা অনুমান করা তো দূরের কথা!  প্রাথমিকভাবে সবাইকে দেখে মনে হয়েছিল তারা সবাই আমার মতো ভিক্টিম । কিন্তু আমার এখন সেই ধারনাটি পাল্টে  গেছে, এখানে কেউ চালাকী করলে এই ঘরেই শেষ। আবার বেশী বোকা হলে মহিলাটি কখন পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে নিচে ফেলে দেয়, খুব ভয়ংকর এক জায়গা  বলে  আমি অনুমান করতে থাকলাম। এখানে মেরে ফেলা হবে, না তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনাকে ব্যাক্তিকে আরো ভিতরে তাদের সিনিয়র রুমে (মুল হোতা)  কাছে পাঠানো লাগবে , কতটা গুরুত্ব আমারা তা পর্যবেক্ষন করতেছে তারা ভিক্টিম সেজে,  এভাবে  আমি জাস্ট অনুমান করা শুরু করে দিলাম । এরপর অন্য একটা রুম থেকে একজন  লোক এসে বলল
অফিসে চাকরি ভাইভা  প্রার্থীদের  উদ্দেশ্য মতো করে-  এখানে  জায়গা কুলাচ্ছে না, আপনাদের সংখ্যা বৃদ্বি পাচ্ছে, তাই আপনাদেরকে  ছেড়ে দেওয়া হবে ধাপে ধাপে। যে পরিমান মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে একই সাথে জীবিত সংখ্যাও। তবুও তার এই ধরনে নির্দেশনা কারন কী! 
আমাদের এরিয়া থেকে সবাই বলাবলি করলো,  ভিতরে ২/৩ জন করে নিয়ে যায় তারপর তাদেরকে কিছুক্ষন পর ছেড়ে দেয় । কিন্তু এই কথার ওপর আমি বড়োজোর করে আস্তা রাখতে পারলাম না।  কারণ কবে কখন কোথায় কীভাবে কোন রাস্তায় দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে এখনও আমার চোখে পড়ছে না। আমাকে যে ঘরে  রাখা হয়েছে সেখানে লোক সংখ্যা প্রায় কমে আসছে । আমি এখানে আমাদের শব্দটি বলতে পারছিনা হলো , আমি এখনও  শনাক্ত করতে পারে নি,  আসলে আমাদের  জীবিতদের  এর মধ্যে  এখনও  আমার মতো ভিক্টিম কারা কারা আছে এই ঘরে...।
তারা (মুল হোল/অপহরনকারী) কি ভিক্টিমকে দিয়ে ভিক্টিমের তথ্য আদায় করিয়ে বাকিদেরকে অপহরন করে আনতেছে বা এখানে যারা আছে তাদেরকে কি প্রয়োজন শেষ হলে মেরে ফেলতেছে । না ভিক্টিম এর মধ্য থেকে কয়েকজনকে সিলেক্ট করে  রেখে পরবর্তীতে প্রয়োজন শেষে মেরে  ফেলবে। তাই  এত এত পরিচিতি মুখ থাকা সত্বেও আমি কথা বলার পরিমানটা কমিয়ে দিয়েছি।
এবার আমি পূর্বে একবার অপহরন হয়েছিল আমার লেখালিখি,  মানুষকে নিয়ে ভাবনা আদিবাসী নিয়ে ভাবনা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য,  সেটি মনে পড়তে লাগলো: ঐদিন  আমাকে সাজায়তে চেয়েছিল অবৈধ বস্তু প্রাণী চোরাচালান পাচারকারী হিসেবে। এমনকি সেদিন ঐ সকল অবৈধ জিনিস আমাকে ধরিয়ে দিয়ে বিডিও করেছিল। তখন বিডিওতে আমাকে যা বলতে হয়েছিল " এই শহরে বিল্ডিংগুলো এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি,  সব কালো টাকায় গড়ে উঠছে, এই কালো টাকা দিয়ে কেউ ব্যবসায় চালায়, কেউ সংগঠন চালায়, কেউ পলিটিক্স চালায়,  কেউ সামাজিকতা কাজ করে দেখায়,  তাই আমিও আপনারদের সাথে ডিল করার জন্যই এটি শুরু করলাম। তারপর তাদেরই একজন বললো : আমরাতো ব্যবসা করি না, আপনাকে ধরার জন্যই ব্যবসায়ী সাজলাম।  তারপর বিডিও অফ। 
আমি তো জানি সে মন্ত্রী,  আমলা,  পুলিশ অফিসার সবাউ কালো টাকার ব্যবসায়ী।  তাদের কথাবার্তা শুনে এটাও বুঝালাম তারাও এই পথের মানুষ এবং কালো টাকার ব্যবসায়ী, কিন্তু খুব বেশী সুবিধা করে এখনও উঠতে পারে নি তারা। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য অবৈধ ব্যবাসায়ীকে প্রোডাক্ট কেনার কথা বলে, নির্দিষ্ট জায়গায় আসতে বলবে, তারপর জিম্মি করবে, প্রোডাক্ট ছিনিয়ে নিবে,  কিছু টাকা পয়সা নিয়ে ছেড়ে দিবে।  কেউ তাদের ওখানে পা দেয়,  কিংবা তারা নিজেরাই ছদ্মবেশে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখিয়ে ঐ সকল মানুষকে খোঁজে।  যেহেতু তারা বুঝতে পেরেছে আমি ঐসবের মধ্যে নেই, তারা আমাকে ছুরি দেখিয়ে টাকার প্রেশার দিতে থাকলো। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ।  এই দরকষাকষি আলাপে তারা বুঝতে পারলো আমার  কাছে আসলে কিছু নেই,,, আমি সত্য  কথোকপকথনের চেষ্টাবাদী। এভাবে ঠিক ১২ ঘন্টার পর ছেড়ে দিল। এই হলো প্রথম দিনের অপহরন। ১২ ঘন্টার  যাবতীয় কথোপকথন  ঘটনা বিবরণ ২০০ পেজেও নিশ্চয়ই শেষ হবে না। তাই ঐ চিন্তা বাদ দিয়ে আপাতত  আজকের  গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে মনোযোগ দিলাম । সেদিনের অপহরণগুলো আজকে মনে করিয়ে দিলো : এবারটা তে একটু অন্যরকম হবে,  ২য় সেলে নিয়ে যাওয়া হবে। বেদম মারধরের পর, পানিতে মাথায় চুবাবে, বালিশ দিয়ে  মুখ মন্ডল চেপে ধরবে, লোহার উত্তপ্ত গোলাতে দাড়াঁয়তে দিবে,  বসতে দিবে,  এরপর বিদ্যুৎ এর শক, তারপর সর্বশেষ টুকরো টুকরো ব্লেড দিয়ে মাংস কাটবে, সেখানে লবন মরিচ ছিটাবে। 
একজন মারা গেলেও কোন ভয় নেই তাদের নিশ্চয়ই, কারন এরপর কত ভিক্টিম রয়েছে তাদের হাতে। কিন্তু তাৎক্ষণিক  আমার মনে হলো তারা আমাকে ঐভাবে মারবে না।
আমাকে কীভাবে মারবে তারা নিশ্চয় স্টাডি করে রেখেছে। তারা দেখাবে আমাদের সকল ব্লাডের গ্রুপ তাদের হাতে রয়েছে, আরো দেখাবে ভোটারধিকার নামে কত আঙ্গুলের ছাপ, চোখের রেটিনা কত কি সংরক্ষণ রয়েছে তাদের গোয়েন্দা ফাইলে, সাথে এটা দেখাবে আমাদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে কত ধরনে মেডিসিন আমাদের ওপর প্রয়োগ করেছিল, ভ্রাতত্বসংঘাত ঘটানো মেডিসিন, আন্দোলন বন্ধ করার মেডিসিন,  শিক্ষা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার নানা মেডিসিন ও প্রেসক্রিপশন আমার সামানে দেখাবে, তারপর আমার পরিবারের আপনজন কাউকে উলংগ করে উপরে সকল ধরনে মধ্যযুগের পৈশাচিক শাস্তিগুলো আমার সামনে ঘটাবে।
তাই শেষ মুহুর্তে আমি ঠিক করলাম : আমার বাড়ির লোকজনও কি এখানে এসেছে!  তারা যদি অপহরণ না হয়ে থাকে তাদেরকে আমার অবস্থান না হয় জানানো দরকার। না তারাও আমার মতোই অপহরণ হয়ে আছে।  কিংবা ইতিমধ্যে মেরে ফেলছে কি না! এখন না হয় আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে মারবে। তবুও পড়ে থাকা মোবাইলটি তুলে বাড়ির লোকজনকে কল দিবো ভাবলাম । ঠিক করলাম কথা গুলো এভাবে যাবে " আমি অপহরণ হয়েছি, অমানবিক একটি জগতে,  আমার এই বার্তাগুলো তুমি জানার পর ভুলে যেতে হবে, তবে নিম্নের তিনজনকে তুমি জানিয়ে রাখতে পার যতোটা সিক্রেট ম্যানটেইন করার সেভাবেই :
১. AIDRETURRLAPE
2. KMIAWNKAJFAA
3. IAENHNCIS

এবার পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো করে পর্যবেক্ষণ  করলাম, তারপর মনস্থির করলাম  আমার নিজ হাতে ফেলে দেওয়া মোবাইলটি তুলার  জন্য ।  ঠিক তখন-ই এতোক্ষণে  নিচের  মেঝেতে পরে থাকা আমার ঐ ফোনগুলো বেজে উঠলো, কয়েকজন তাকালো মোবাইলের দিকে,  যাকে আমি আমার মতোই ভিক্টিম ভাবছিলাম এতোক্ষণ,  তিনি  মোবাইল স্কিনে থাকা কলের  সবুজ বাটন চিহ্নের ওপর বন্ধুকের নল দিয়ে আঘাত করার মাত্রই মোবাইলটি স্তব্ধ  হয়ে যায়।
এবার আমি আরো নিশ্চিত হলাম হলাম এখানে যারা আছে,  তারা আর কোনদিন বাড়ি বা নিজভুমিতে ফিরে না। এখানে আসার পর আর কেউ জানে না আমাদের আর জীবিত সংখ্যা মোট কতজন আছে। শুধু এইটুকু মনে হয়েছিল " একটি ভাষার কথা বলা সর্বশেষ লোকটি মারা যাওয়া  মানে পৃথিবীতে একটি ভাষার মৃত্যু ঘটে, ঐ জাতির সর্বশেষ নর-নারী মারা যাওয়া মানে পৃথিবীতে একটি জাতির বিলুপ্ত ঘটে। এভাবে এক একটি জাতিকে হারানো মানে পৃথিবী থেকে এক একটি জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া। সাথে এই প্রান্তিকীকরন, আন্দোলন দমিয়ে রাখা, বাধা দেওয়া, সংস্কৃতি -উৎসব চর্চা করতে না দেওয়া- সর্বোপরি এ অপহরণ ও গনহত্যাকে আমি বলছি " Ethenic cleansing operation " যেখানে কেউ আর কারোর শরীর বেঁচে থাকে না। থাকে শুধু সত্য ও চেতনা। যেটি কখনো মৃত্যু ঘটে না তবে ধামাচাপা পড়তে পারে..….....

ধীমান ত্রিপুরা
বি.এস.এস (অনার্স), এম.এস.এস (নৃবিজ্ঞান) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


Post a Comment

0 Comments