এনসিপির (National Citizen Party) আজ ১ বছর ২ মাস রানিং চলতেছে, এখনও তারা মার্কা পাননি। টাকা আছে ঠিকই কিন্তু উক্ত টাকা দিয়ে দল চালায়তে পারছে না। দল চালানোর জন্য দরকার অভিজ্ঞতা ও বিচারিক ক্ষমতা। একজন তরুনকে ৬ মাস ট্রেনিং দিলে উপজেলার দপ্তরগুলো চালায়তে পারবে কিন্তু জনগনকে চালায়তে পারবে না। জনগনকে চালানো জন্য জনগনের পালস, বিভিন্ন রাজনীতি-সামাজিক সংগঠন, সংস্থা, স্টেকহোল্ডারদের পালসগুলো বুঝতে হয়। আর এই অভিজ্ঞতাগুলো আসে হলো: বয়সের সাথে সাথে, ধীরে ধীরে , জনগনের সাথে মিশতে মিশতে। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যরা পরিবার থেকে দ্রুত রাজনীতি শিখতে পারে বলে-ই : অভিজ্ঞতা ছাড়াই তারা রাষ্ট্র ও জনগনকে চালানো জন্য ক্ষমতা রাখে। প্রফেসর ইউনুস সাহেব এনসিপিকে বড়োজোর বুদ্ধি জ্ঞান দিবে, কিন্তু নিজেদের দল গোছায়তে হবে এনসিপিকে । দল গোছানো এই চলমান প্রকিয়ায় এনসিপি রাষ্ট্র গোছাবে আর কখন? নির্বাচন দরজা কড়া নাড়ছে। মার্কা পান নি এখনও তারা। নিকট অন্যান্য রাজনীতি দলের সাথে রাজনীতি প্রতিযোগী ও সহযোগী প্রেসার তো আছেই। জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করে তারা কি শাপলা মার্কা পাওয়ার জন্য রাজনীতি প্রেসার দিতে পারবে? না এই স্বাক্ষরটি না করে নির্বাচন বিলম্ব করার মেটিকিউলাস-ই এর অংশ?
বর্তমানে ইউনুসকে সর্মথন করে সব রাজনীতি দলগুলো, কিন্তু সেই সমর্থন এর মাত্রা, পরিমান কমে আসতেছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাউদ্দিন সাহেবে বক্তৃতা আরো সুস্পষ্ট করে দেয় " মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমরা আপনার উপর বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে কিন্তু সেটি কন্ডিশনাল এবং সীমাহীন নয় "।
আর অন্যদিকে এতদিনের কিংস পার্টি (এনসিপি) নামে পরিচিত এনসিপি দলের ওপর কি ইউনুসের মোটিভেশনাল ও স্বপ্ন দেখানো মতো চমৎকার বক্তব্য আর কাজ করতেছে না? না এটি জুলাই এর মেটিকিউলাস এর অংশ যে " এনসিপিকে জুলাই সনদ এ স্বাক্ষর করতে বারণ করছে প্রফেসর ইউনুস সাহেব?
সেনাপ্রধান ওয়াকার সাহেব ও কি! মেটিকিউলাস এর অংশ! যিনি মাঝে মাঝে ইউনুসের সাথে দূরত্ব থাকবে, ইউনুস এর কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা করবে সার্বভৌমত্ব এর দোহায় দিয়ে, কিংবা যখন কয়েকজন সেনাদের বিচার এর কথা উঠবে " ওয়াকার সাহবে তখন টেনশন চাপ সহ বিভিন্ন এক্টিং কার্যকলাপ করে দেখাবে! এই মুহুর্তে আওয়ামীলীগ যদি দেশের কাউকে হায়ার করে আওয়ামীলীগকে সমালোচনা করে রাজনীতি করার জন্য, টকশো করার জন্য, দেশে থেকে এসব পরিচলানা করার জন্য! আপনি কি খুবই অবাক হবেন? পাশাপাশি তারা রাজনীতি কার্যের আরো একটি অংশ হিসেবে অনেক ফলোওয়ার ওয়ালা ব্লগার বা তারকাকে টার্গেট করে যদি দলের অনুকুলে রাজনীতি বয়ান দেওয়ার জন্য বলে আপনি কি অবাক হবেন?
ধর্মীয় রাজনীতিরা ক্ষমতা যাওয়ার জন্য কেউ হারাম হালাল আর বিবেচনা করে না, দল সংগঠন চালানো জন্য টাকা দরকার, সেই টাকার জন্য কত রাজনীতি বন্দী হয়, আবার মুক্তি পায়! সেখানে ইসলাম ধর্মতত্ত্ব, মতাদর্শ, গনতন্ত্র চর্চা টা কেমন হতে পারে বলুন তো? আপনি এমপি হতে পারবেন না, কিন্তু ভোট ব্যাংক বিক্রি করে কোটি টাকা পেয়ে যদি দল চালানো যায়, ঐ টাকা দিয়ে সামজিকতা কাজ করানো যায়, মানুষের কল্যানে কাজ করানো যায় তাহলে ভোট ব্যাংক বিক্রি করলে কি খুব ক্ষতি হবে? কিংবা সমাজের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করিয়ে দিয়ে ক্ষতিপূরণের এর বড়ো অংকের টাকা দিয়ে সমাজের কল্যানমুলক কাজ করলে, তাকে আপনি কি বলবেন? কিংবা যদি বলি : হাসিনার আমলে মামলা খাওয়া প্রফেসর ইউনুস হাসিনাকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মার্কিনদের কাছে দেশ বিক্রি করে হলেও দেশে আসবে, হাসিনাকে হটাবে! মামলা খেয়ে মানসিক টর্চার, রেপুটেশন এর টর্চার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হলেও; আপনি হলে রাজি হবেন কি না! দেশ বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় আসতে বা হাসিনাকে হটাতে বা মার্কিনদের এই মেটিকিউলাস এর অংশ হতে ?
ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, গাজা, ফিলিস্তিন আজ ধবংসের পথে। নিজেদের ধর্মে নামে তাদের আজ সব ছিটেফোঁটে হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে কি বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদকে ক্ষমতায় বসিয়ে আবার তাদের সন্ত্রাস কার্যক্রম ধবংস করে দিতে চাচ্ছে মার্কিনরা? এই যদি মার্কিন নীতি ও পশ্চিমা নীতি হয়ে থাকে তাহলে কি শুধুই হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানরা নিরাপদ হবে, আর দেশে বাকি মুসলিমরা মারা যাবে তাদের ধর্মের রাজনীতিতে? না মুসলিমরা কি রক্ষা করতে পারবে বাংলাদেশের আদিবাসী, সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানদেরকে? না এই রক্ষার দায়িত্ব আমেরিকা নেওয়া শুরু করবে মুসলিমদেরকে দমন করে করে........... যারা ইতিমধ্যে ধীরে ধীরে সেন্ট মার্টিনের ঢুকে গেছে, সেই সেন্টমার্টিন নামটাও কিন্তু ইংরেজিতে, এটি কি শত বছর আগে মেটিকিউলাস অংশ ছিল আমেরিকানদের? যারা এখানে ঘাঁটি তৈরি করবে মুসলিমকে দমন করার জন্য? এই ভুখন্ড আমেরিকানদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এটি আরো একদিন আলোচনা করবো............। কিন্তু এই মুহুর্তে মুসলিম জনগণ, আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মিলেমিশে থাকতে না পারলে.......... রাজনীতির ট্রাম কার্ড খেলা শুরু হয়ে যাবে!
মুসলিম জনগোষ্ঠী দ্বারা আদিবাসী দমন, সংখ্যালঘু দমন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান দমন মেসেজটি মার্কিনরা খোঁজে বের করবে-ই এটি আর লুকানো যাবেনা তখন........... তারা(মার্কিন) হবে বিচারক.............. প্রতিবেশী হিন্দু দেশ ভারত, বৌদ্ধ দেশ মায়ানমার। আরো একটু কাছে চীন সেটিও মুসলিম নয়। তাহলে বাংলাদেশ কি ভয়ংকর আন্তজার্তিক রাজনীতি কবলে পড়তে যাচ্ছে?
0 Comments